মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

গাইবান্ধা পৌরসভা

গাইবান্ধা পৌরসভা ১৯২৩ খৃষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৬০ খৃষ্টাব্দে টাউন কমিটিতে রুপান্তরিত হয়। ১৯৭২ খৃষ্টাব্দে গাইবান্ধা পৌরসভা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

 পৌরসভার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটঃ

গাইবান্ধা পৌরসভার অতিত ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বিভিন্ন সুত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়,বর্তমান অবস্থানে গাইবান্ধা জেলা শহরের গোড়া পত্তন হয় বিগত ১৮৭৫ খৃষ্টাব্দে। এর আগে গাইবান্ধা নামে কোন শহর ছিল না।ব্রক্মপুত্র নদীর তীরে পাতিলাদহ পরগনার ভবানীগঞ্জ মৌজায় ৯৩ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে সর্ব প্রথম ১৮৫৮ খৃষ্টাব্দে ২৭ আগষ্টভবানীগঞ্জ মহকুমা নামে একটি মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৭২ খৃষ্টাব্দের  প্রথম ভাগে ব্রক্ষ্রপুত্র নদীর পূর্বপাড় জুড়ে  ব্যাপক নদীভাঙ্গন শুরু হলে মহকুমা শহরটি জরুরী ভিত্তিতে অন্যত্র স্থানান্তরিত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এমতাবস্থায় ভবানীগঞ্জ থেকে ১২ কিমি পশ্চিমে ঘাঘট নদীর তীরে এই গাইবান্ধা নামক স্থানে মহকুমা শহরটি ১৮৭৫ খৃষ্টাব্দে স্থানান্তরিত হয়। নতুন স্থানের নামানুসারে তখন থেকেই ভবানীগঞ্জ মহকুমার নাম পরিবর্তন হয়ে গাইবান্ধা মহকুমা হয়। কথিত আছে যে, ৫ হাজার বছর পূর্বে মহাভারত খ্যাত মৎস্য দেশের রাজা বিরাটের রাজধানী ছিল গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানায়। রাজা বিরাটের ৬০ হাজার গাভী ছিল। এই গাভীদের গো-চারণ ভুমি এবং গো-শালা ছিল বর্তমান গাইবান্ধা পৌর এলাকা জুড়ে। সেই গাইবাঁধা এলাকা থেকে স্থানের নামকরন হয়েছে গাইবান্ধা।

নতুন নামে নতুন স্থানে গাইবান্ধা শহরটি গড়ে উঠতে শুরু করে। ১৯০১ খৃষ্টাব্দে গাইবান্ধা শহরটির আয়তন ছিল ২.৩৩ বর্গমাইল এবং লোকসংখ্যা ছিল ১,৬৩৫ জন। বর্তমানে যে স্থানে গাইবান্ধা শহর প্রতিষ্টিত হয় সে স্থানটি বাহারবন্দ ও মুক্তিপুর পরগণাভুক্ত এলাকা ছিল সাবেক আমলে। বাহারবন্দ পরগণাভুক্ত পৌর এলাকাটি আদিতে ছিল কাশিমবাজারের কৃশ্ননন্দীর স্ত্রী মহারানী স্বর্ণময়ীর আওতাধীন জমিদার মনীন্দ্রনন্দীর  জমিদারীতে। আর মুক্তিপুর পরগণাভুক্ত পৌর এলাকার অংশটুকু ছিল থানসিংহপুরের জমিদার লাহিড়ী পরিবারভুক্ত। বলা হয়ে থাকে বর্তমান ডিবি রোডটি ছিল সাবেক দুই পরগণার আর দুই জমিদারের সীমানা। ডিবি রোডের দক্ষিন দিক হচ্ছে মুক্তিপুর পরগণা আর উত্তর অংশ হচ্ছে বাহারবন্দ পরগণা । ১৯২৩ খৃষ্টাব্দের ৩০সেপ্টেস্বর পর্যন্ত গাইবান্ধা শহর এলাকায় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালু ছিল। গাইবান্ধার সর্বশেষ পঞ্চায়েত ছিলেন বাবু কাজী। তিনি অত্যন্ত নগণ্য সংখ্যক শহরবাসীর নিকট থেকে খাজনাপত্র আদায় করতেন একজন আদায়কারী কর্মচারীর মাধ্যমে। পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সময়কালে সর্বশেষ আদায়কারী ছিলেন মোহন পন্ডিত। এদিকে বৃটিশ সরকারের পৌর প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করার পরিপ্রেক্ষিতে মহকুমা শহরগুলোতে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার পরিবর্তে১৮৯৩ খৃষ্টাব্দ থেকে পৌর প্রশাসন ব্যবস্থা চালু করা হয়। গাইবান্ধা শহরবাসীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে  বৃটিশ সরকার পঞ্চায়েত ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে ১৯২৩ খৃষ্টাব্দের ১লা অক্টোবর গাইবান্ধা মিউনিসিপ্যালিটি প্রতিষ্ঠা করেন।

ছবি